বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপলে’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি সম্পন্ন হয়। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে চীন ব্রিকস জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে।
বিনিয়োগ সহায়তার অংশ হিসেবে চারটি প্রধান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক চুক্তি। এছাড়া বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে বিডা ও সিসিপিআইটির মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি এবং কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, চীন থেকে প্রাপ্ত সহজ শর্তের ঋণের সুদের হার কমানো এবং গ্রেস পিরিয়ড বাড়ানোর বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কুল কারিকুলামে চীনা ভাষা ‘ম্যান্ডারিন’ অন্তর্ভুক্ত করা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে পৃথক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাণিজ্য প্রসারে বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে দুই দেশ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে সংবাদ বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ৪টি স্মারক সই করেন। এদিকে, বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন তিয়াওইউথাই-এ চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এতে সই করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাই সিং।
বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের উপস্থিতিতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বিনিয়োগ, শিক্ষা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।



0 মন্তব্যসমূহ