পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী নেতারা নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করার পর এই প্রতীকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিদ্রোহী নেতারা দলীয় চেয়ারপারসনের পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন কমিটিতে হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চারজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এই ঘটনার পর মমতাপন্থী নেতারা বিদ্রোহীদের ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে আটজন নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে দলীয় প্রতীক রক্ষা করা কঠিন হতে পারে। কারণ বিদ্রোহী শিবির ইতোমধ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন কমিটির তথ্য জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিধানসভার পাশাপাশি লোকসভার তৃণমূল এমপিদের মধ্যেও বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি অংশ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও তারা তৃণমূলের প্রতীকের দাবিতে সক্রিয় রয়েছেন। সম্প্রতি অভিনেত্রী ও সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীকটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তবে এই প্রতীকের নকশা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে; চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী এটি তার সৃষ্টি বলে দাবি করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে এর স্রষ্টা হিসেবে দাবি করেন। বর্তমানে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট গভীর হওয়ায় প্রতীকটি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলীয় প্রতীক জোড়া ঘাসফুল এবং নেতৃত্ব নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিদ্রোহীদের আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ