মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নতুন মানবিক রাষ্ট্র ও আদর্শ সমাজ নির্মাণের ঐতিহাসিক সূচনা। তৎকালীন মদিনার অস্থির সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চারটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করেছিলেন।
মদিনার তৎকালীন ইহুদি পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, যিনি পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন, তিনি মহানবীর মদিনায় আগমনের সেই মুহূর্তটি বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আল্লাহর রাসুল যখন প্রথম মদিনায় পৌঁছান, তখন মানুষ তাঁকে দেখার জন্য ভিড় করে। তাঁর পবিত্র চেহারা দেখেই আবদুল্লাহ ইবনে সালামের মনে হয়েছিল যে, এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না।
সমবেত জনতার উদ্দেশে মহানবী (সা.) তাঁর প্রথম ভাষণে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন। প্রথমত, তিনি ক্ষুধার্তকে অন্নদানের নির্দেশ দেন। তিনি মনে করতেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে সমাজে অপরাধ ও সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, তিনি সমাজে সালাম বা শান্তির বার্তার ব্যাপক প্রসারের কথা বলেন, যা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।
তৃতীয় মূলনীতি হিসেবে তিনি আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পারিবারিক ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখতে রক্তের সম্পর্ক রক্ষা করাকে তিনি অপরিহার্য মনে করতেন। সর্বশেষ এবং চতুর্থ নীতি হিসেবে তিনি রাতের নির্জনে ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজের কথা বলেন। মহানবীর মতে, এই আত্মিক সংযোগ মানুষকে অহংকারমুক্ত করে জনকল্যাণে কাজ করার প্রেরণা জোগায়। এই চারটি মানবিক ও আত্মিক মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই মদিনায় পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শান্তিময় সমাজ গড়ে উঠেছিল।
মদিনায় হিজরতের পর একটি শান্তিময় সমাজ গঠনে মহানবী (সা.) চারটি মূলনীতি ঘোষণা করেন। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান, সালামের প্রসার, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা ও রাতের ইবাদতের মাধ্যমে তিনি এক অনন্য মানবিক রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়েন।



0 মন্তব্যসমূহ