ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচা দখল করে নিয়েছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। এই অভিযানের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হুতিদের এই অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি দিকনির্দেশনা ও সামরিক সহায়তা ছিল।
ইয়েমেন সরকার ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মোচা দখলের মধ্য দিয়ে হুতিরা নৌপথে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহের ওপর নতুন করে চাপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে হুতিদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও, দেশটির সূত্রগুলো জানিয়েছে যে তারা হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আঞ্চলিক কূটনীতিকদের তথ্যমতে, আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা ইয়েমেনে অবস্থান করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা তদারকি করেছেন। ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার আবদোলরেজা শাহলায়ি এই অভিযানের নেপথ্যে রয়েছেন। যদিও ইরান দাবি করেছে, মোচা অভিযানের সিদ্ধান্তটি হুতিদের নিজস্ব ছিল।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আহমেদ নাগি জানিয়েছেন, হুতিদের এই সাফল্য দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির ফল এবং এতে ইরানের ড্রোন ও আধুনিক অস্ত্রের বড় ভূমিকা রয়েছে। এদিকে, সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকার হুতিদের প্রধান ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের বিমান হামলার অনুরোধ জানালেও রিয়াদ বর্তমানে সীমিত পরিসরে সহায়তা দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিজ ভূখণ্ডে হুতিদের পাল্টা হামলা এড়াতেই সৌদি আরব সরাসরি বড় সংঘাত থেকে বিরত থাকছে।
ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ মোচা বন্দর দখল করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এই অভিযানে ইরানের সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলো।



0 মন্তব্যসমূহ