ইসলামের দৃষ্টিতে কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি মহৎ ইবাদত। জীবিকা নির্বাহের জন্য যেকোনো বৈধ পেশা বেছে নেওয়া মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চাকরিজীবী, করপোরেট কর্মী এবং নিয়োগকর্তাদের জন্য শরিয়ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
প্রথমত, চাকরির চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক কর্মীর ধর্মীয় দায়িত্ব। সুরা মায়েদায় মহান আল্লাহ অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনে কুদামাহর মতে, অলসতা বা অবহেলার কারণে কাজের সময় নষ্ট করলে বেতনের বরকত কমে যায় এবং তা আমানতের খেয়ানত হিসেবে গণ্য হয়। দ্বিতীয়ত, শ্রমিকের পারিশ্রমিক সময়মতো পরিশোধ করা নিয়োগকর্তার প্রধান দায়িত্ব। মহানবী (সা.) শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই পারিশ্রমিক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইমাম আবু ইউসুফ পারিশ্রমিক আটকে রাখাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জুলুম হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তৃতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি বর্জন করা জরুরি। ইবনে হাজার আসকালানির মতে, অযোগ্য ব্যক্তিকে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া আমানতের খেয়ানত এবং ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত পদ হারাম। চতুর্থত, কাজের সময়কে আমানত হিসেবে গণ্য করা। ইমাম আল-গাজালির মতে, অফিসের সময়ে ব্যক্তিগত কাজ করা বা ভুয়া সনদে ছুটি নেওয়া উপার্জনকে কলঙ্কিত করে। পঞ্চমত, কর্মীকে সামর্থ্যের অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া। ইমাম নববি উল্লেখ করেছেন, কর্মীদের নিজের ভাইয়ের মতো সম্মান দিতে হবে এবং তাদের সাধ্যের অতীত কাজ দেওয়া যাবে না।
এছাড়া, পদের প্রভাবে উপহার গ্রহণকে মহানবী (সা.) ‘খেয়ানত’ বা সুপ্ত ঘুষ হিসেবে গণ্য করেছেন। সুদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা নিষিদ্ধ হলেও সাধারণ আইটি বা নিরাপত্তা পদের ক্ষেত্রে ওলামাদের ভিন্ন মত রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে কাজের ধরন ও পণ্য যদি বৈধ হয়, তবে সেই উপার্জন সম্পূর্ণ হালাল বলে গণ্য হবে।
কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় ইবাদত। পেশাগত জীবনে বরকত ও হালাল ক্যারিয়ার গড়তে ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।



0 মন্তব্যসমূহ