কক্সবাজারে কড়া নিরাপত্তায় বিসর্জন হল 'মা দূর্গা' প্রতিমা

সাখাওয়াত হোসাইন:

কক্সবাজারে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ২৬ অক্টোবর সোমবার বিকেল ৩টা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরস্বতী বাড়ির প্রতিমা সহ জেলার বিভিন্ন স্থানের পূজামণ্ডপ থেকে ভক্তরা সমুদ্রে প্রতীমাগুলো বিসর্জন দেয়। একই সাথে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতীমা বিসর্জন দেয় সনাতন ধর্মের ভক্ত-অনুরক্তরা। পাশ্ববর্তী পার্বত্যজেলা বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকেও প্রতিমা বোঝাই ট্রাক আসে কক্সবাজার সমূদ্র সৈকতে। পরে ভক্তদের কাঁধে চড়ে 'মা দূর্গা'র প্রতিমা বিসর্জন হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, সদর থানার ওসি শেখ মুনির উল গীয়াসসহ সংশ্লিষ্টরা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের মতে, টানা পাঁচদিন মৃন্ময়ীরূপে মন্ডপে মন্ডপে থেকে আজ ফিরে গেছেন কৈলাশে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে। মহাষষ্ঠীতে দূর কৈলাশ ছেড়ে মা পিতৃগৃহে আসেন দোলায় চড়ে। বিজয়া দশমীতে বিদায় নেন ঘোড়ায় চেপে। কক্সবাজার জেলায় ১৪৪ টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা উদযাপন হয়েছে, তারমধ্যে শহরে ১১টি। এবার সমুদ্র সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে প্যান্ডেল তৈরী হলেও বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। হয়নি বিদায় অঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠানও। তবে বিসর্জনকে ঘিরে প্রতিবারের মতো আয়োজন না থাকলেও উলুধ্বনি, শঙ্খ ও ঢোল বাজিয়ে সাগর ও নদীর পানিতে ভাসানো হয় ‘মা দুর্গা’ প্রতিমা। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছাপও ছিল।

বিজয়া দশমীর দুর্গোৎসবকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনাকালীন স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য নির্দেশনা থাকলেও সৈকতের বিসর্জন উৎসবে মাস্ক ব্যবহারী লোকের সংখ্যা দেখা মেলে খুবই কম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রতীমা বিসর্জনে জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য, ফায়ার সার্ভিস বাহিনী ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের উদ্যোগে সৈকতপাড়ে নির্মাণ করা হয় বেশকয়েকটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। সেখান থেকেই পুরো সৈকতের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। সৈকতের পয়েন্টগুলোতে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা।

জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত কুমার দাশ জানান, শতাধিক মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিজয়া সম্মেলন না হলেও বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য বছর সৈকত প্রতিমার বিদায় অঞ্জলি প্রদান করা হলেও এবার ট্রাকের তোলার আগে মণ্ডপে ওই অঞ্জলি শেষ করা হয়। ফলে ট্রাক থেকে সোজা সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ৭ দফা নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পুজোকালীন সময়ে করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনামূলক ২৬ দফা মেনে এবারের দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য