কুড়িগ্রামের ধরলার পানি বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপরে

মোঃ মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামঃ
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কুড়িগ্রামের সবগুলি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৯৪ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার ৯ উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে গ্রামীন জনপদ, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি, স্কুল, কলেজ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমুহ। 

পানিবন্দি পরিবারগুলি রয়েছে নানা দূর্ভোগে। নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় নদীতীরবর্তী মানুষজন অাতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে থাকায় বানভাসী অনেক মানুষ তাদের বাড়ি-ঘরের অবকাঠামোর টিন, ছনের বেড়া, হাড়ি পাতিল, 

জ্বালানী, আসবাপত্র সহ গবাদি পশু নিয়ে  বৃষ্টিতে ভিজে কোন রকমে পাকা সড়ক ও নদীরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বানভাসী মানুষ জন বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে অাক্রান্ত হচ্ছেন। 

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চর এলাকার করিমন, মকবুল ও হাসনা জানান, ঘরের মধ্যে এক কোমর পানি। থাকার সমস্যা খাওয়ার সমস্যা। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। 

গবাদি পশুর বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে বিপাকে অাছি। চারিদিকে পানি থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবর চন্দ্র সরকার জানান, কুড়িগ্রামে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তা ১৫ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ১৫ তারিখের পর আগামী পরিস্থিতি জানা যাবে। গত ২৪ ঘন্টায় ৪৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী  সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নটি সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার পরিবার পানি বন্দি জীবন যাপন করছে। গত বন্যার কিছু বরাদ্দ ছিল তা বিতরণ করা হয়েছে নতুন করে এখনও বরাদ্দ পাইনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ